Donald Trump: প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করার আগেই ভারত, চীন রাশিয়াকে হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প! কেন?
বাংলার জনরব ডেস্ক : আমেরিকায় ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর আমাদের দেশের কিছু অন্ধ ভক্ত জয় ট্রাম্প নামে মিছিল করেছিলেন। এই সকল ভক্তদের মনে হয়েছিল ট্রাম্প জিতলে ভারতের সুবিধা হবে তিনি নরেন্দ্র মোদির বন্ধু। আসলে আমেরিকা কোন কালেই কোন রাষ্ট্রেরই বন্ধু নন এই সহজ সমীকরণটা আমাদের দেশের অন্ধ ভক্তরা বুঝতে পারেন না। যার ফলে তাদের মনে হয় এবার যখন ট্রাম্প জয় লাভ করেছে আমাদের এখানে সংখ্যালঘুদের দমন পীড়ন করাটা অধিকারের মধ্যে চলে আসবে। কিন্তু আমেরিকায় রিপাবলিকান দল জয়লাভ করার ফলে এই দলের প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তারা দেশের স্বার্থটা কে সবার আগে অগ্রাধিকার দেবেন।
আগামী কুড়ি জানুয়ারি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার আগে তিনি কার্যত ভারত, চীন এবং রাশিয়াকে হুঁশিয়ারি দিলেন। কারণ মূলত এই তিনটি দেশের উদ্যোগে ব্রিকস স্থাপিত হয়েছে নটি দেশকে নিয়ে। এদের লক্ষ্য হচ্ছে ডলারকে বাদ দিয়ে নিজস্ব মুদ্রায় এই নয়টি রাষ্ট্রের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ করা। নতুন অর্থনীতি গড়ে তোলা।

৯টি দেশের সমন্বয়ে গঠিত ব্রিকস সংগঠনটি মার্কিন ডলারের পরিবর্তে আলাদা মুদ্রা চালু করতে চায়। যা দিয়ে নিজেদের মধ্যে পণ্য লেনদেন করবে তারা। সবশেষ অক্টোবরে ব্রিকসের বৈঠকে এমন আলোচনায় একাত্মতা পোষণ করেছে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ ব্রিকসের বাকি দেশগুলো।
ব্রিকসের এমন আলোচনার ঘোর বিরোধী যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প। ব্রিকসের এই নীতির বিরোধিতা করে ভারত, চীন, রাশিয়াসহ বাকি দেশগুলোকে সতর্কবাণী দিয়েছেন তিনি। যেখানে এই দেশগুলোর ওপর কড়া শুল্ক আরোপের পক্ষে মত তার।
এক অনলাইন পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘ব্রিকস দেশগুলো আমাদের পাশে দাঁড়িয়ে থেকে ডলার থেকে দূরে সরে যাওয়ার চেষ্টা করছে, সেই ধারণাটি শেষ হয়ে গেছে। এই দেশগুলোর কাছ থেকে আমাদের একটি প্রতিশ্রুতি প্রয়োজন যে, তারা নতুন ব্রিকস মুদ্রা তৈরি করবে না। বা শক্তিধরদের প্রতিস্থাপনের জন্য অন্য কোনো মুদ্রা ফিরিয়ে দেবে না। তবে সেটি হলে তারা ১০০% শুল্কের সম্মুখীন হবে।’
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মতে ব্রিকস দেশগুলি অন্য একটি মুদ্রার সন্ধান করতে পারে, তবে তারা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ডলারকে অন্য মুদ্রার মাধ্যমে প্রতিস্থাপন করতে সক্ষম হবে না। কারণ যে দেশ চেষ্টা করবে আমেরিকাকে বিদায় জানাতে হবে।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগেও এমন কথা বলেছিলেন ট্রাম্প। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আর্থিকভাবে শক্তিশালী করতে শুল্ক পরিকল্পনা নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন তিনি। জানিয়ে ছিলেন, আমরা সাধারণত শুল্ক চার্জ করি না। আমি সেই প্রক্রিয়াটি শুরু করেছিলাম। কাভার ভ্যান এবং ছোট ট্রাকের ওপর এটি খুব দুর্দান্ত ছিল। চীন আমাদের ওপর ২০০ শতাশং চার্জ করে। শুল্কের দিক দিয়ে ব্রাজিলও একটি বড় চার্জার।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে নিজের গভীর সম্পর্কের কথা জানালেও শুল্ক চার্জ নিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘সকলের মধ্যে সবচেয়ে বড় চার্জার হল ভারত। তারা সম্ভবত অনেক উপায়ে চীনের চেয়ে বেশি চার্জ নেয়। কিন্তু তারা হাসিমুখে এটা করে। তারা বোঝায় এটা খুব সামান্য চার্জ। তারা বলে ভারত থেকে কেনার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।’

